ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে কারসাজি—৭৬ কোটি টাকার দরপত্র বাতিল বগুড়ায় দুই বেকারিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা বেরোবির রিআর্থ ক্লাবের নতুন নেতৃত্বে শাকীব, শাহারিয়া ও পুলক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ১ বায়তুল মুকাররমে ইবাদতবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা সৈয়দপুরে পিআইও কার্যালয়ের ১০ শতাংশ কমিশন গ্রহণের অভিযোগ বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন নেত্রী নন , তিনি একজন মহিয়সী নারী: প্রিন্স জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে কুরআন সুন্নাহ’র ভিত্তিতে দেশ চালাবে – এটিএম আজহারুল নির্বাচিত হই আর না হই ব্রিজ অবশ্যই করে দিব – হুমাম কাদের চৌধুরী যশোরে স্বর্ণেরবার ও স্বর্ণালংকারসহ এক পাচারকারী আটক

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব, লাখো পর্যটকের সমাগম

তৌহিদ বেলাল
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৭৬ বার পড়া হয়েছে

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এসময় প্রতিমা বিসর্জনের মহাযজ্ঞে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো সৈকত এলাকা। লাখো মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুর দু’টোয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে বিজয়া সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের এই আয়োজন।

কক্সবাজার জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা ট্রাকযোগে সৈকতে আনা হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। তবে চকরিয়া ও পেকুয়ার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন করা হয়। কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়।

তিনি বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই বিশেষ দিনে কক্সবাজারে সমবেত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সৈকত এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি টহল লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।

কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতেও আমরা তৎপর। চারদিনের টানা ছুটি ও বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে কয়েকদিনে কয়েক লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শতভাগ রুমের অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিন হোটেলগুলোতে প্রচুর চাপ থাকবে। পর্যটকদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত রুম ভাড়া না নেওয়ার জন্য হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রতিমা বিসর্জন সফল করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে।

সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের গুপ্তখালের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। লাইফগার্ড সদস্যরা নিরলসভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে পর্যটকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের এই প্রাণবন্ত আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের আন্তরিকতায় এই উৎসব পর্যটকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব, লাখো পর্যটকের সমাগম

আপডেট সময় : ০৩:০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এসময় প্রতিমা বিসর্জনের মহাযজ্ঞে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো সৈকত এলাকা। লাখো মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুর দু’টোয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে বিজয়া সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের এই আয়োজন।

কক্সবাজার জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা ট্রাকযোগে সৈকতে আনা হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকেও প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। তবে চকরিয়া ও পেকুয়ার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা মাতামুহুরী নদীতে বিসর্জন করা হয়। কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সাগরে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়।

তিনি বলেন, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এই বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই বিশেষ দিনে কক্সবাজারে সমবেত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সৈকত এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি টহল লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের সমন্বিত কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কাজ করেছে।

কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সারা দেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতেও আমরা তৎপর। চারদিনের টানা ছুটি ও বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে কয়েকদিনে কয়েক লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শতভাগ রুমের অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েকদিন হোটেলগুলোতে প্রচুর চাপ থাকবে। পর্যটকদের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত রুম ভাড়া না নেওয়ার জন্য হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। প্রতিমা বিসর্জন সফল করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে।

সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বৈরি আবহাওয়ায় সৈকতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটকদের গুপ্তখালের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। লাইফগার্ড সদস্যরা নিরলসভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে পর্যটকদেরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের এই প্রাণবন্ত আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের আন্তরিকতায় এই উৎসব পর্যটকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।