প্রকৃত মৎস্য চাষীরা যেন পুকুর, জলাশয় ও খালগুলো ইজারা নিতে পারে : সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
- আপডেট সময় : ০৮:০০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ৮৮ বার পড়া হয়েছে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, যে দেশে পলিথিন ব্যাগ বন্ধ করতে গিয়ে অভিযানে সরকারি কর্মকর্তার নাক ফাটিয়ে দেওয়া হয় সেই দেশের নাগরিকগণ সচেতন না হলে ১০০ বছরেও পলিথিন ব্যাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে কী পরিমাণ শপিং ব্যাগ জমা হয়েছে তা উদ্ধার করলে রাখার জায়গাও পাওয়া যাবে না। সুপার শপগুলোতে আমরা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছি। গণতন্ত্রের সাথে পরিবেশের একটি সম্পর্ক আছে।
গণতন্ত্রে নেতার দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের কর্মীদের। ঠিক তেমনি পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হবে নাগরিকদের। আপনার পরিবেশ অন্য কেউ ঠিক করে দেবে না। আপনার পরিবেশ আপনাকেই ভালো রেখতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় যতগুলো আন্দোলন হয়েছে সেগুলোই সবগুলোই সফল হয়েছে। যেমন দিনাজপুরের কয়লা উত্তোলন বন্ধ করা নিয়ে আন্দোলন, আড়িয়ালবিলে বিমানবন্দর বন্ধের আন্দোলন এবং সর্বশেষ সিলেটের সাদা পাথর উত্তোলন বন্ধ করার আন্দোলন। এসব আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণকেই দিতে হবে।

২০০২ সালে পলিথিন উৎপাদন নিষিদ্ধ করার জন্য আইন পাস করা হলেও ২০২৫ সালে সেটা আমাদের বুঝতে হবে কেন। বাংলাদেশ-এর মতো এমন দেশ পৃথিবীতে আর নেই। পলিথিন ব্যাগের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের দেহে মাইক্রো প্লাস্টিক প্রবেশ করছে যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাইক্রো প্লাস্টিকের হাত থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে পাটের ব্যাগ নিয়ে বাজারে যেতে হবে। তিনি আজ সকালে কেরানীগঞ্জের আটি দাঁড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরী ও ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৪৪টি ইজারা বিহীন খাস পুকুর ও জলাশয় সংস্কার, উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের জাতীয় সম্পদগুলোকে খুঁজে বের করে সেগুলোকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪৪টি ইজারা বিহীন খাস পুকুর ও জলাশয় সংস্কার, উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্পের উন্নয়নের কাজ শুরু করা হলো। এতে ঢাকা শহর ও উপজেলাগুলোর খালগুলো আমরা রক্ষা করতে পারব। আমাদের সংক্ষিপ্ত সময়ে আমরা কতটুকু অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিতে পারব তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে কতটুকু এগিয়ে নিতে পারব সেটাই বড় কথা। শুভাঢ্যার খালটির খনন কাজ আমরা শুরু করেছি। প্রকৃত মৎস্য চাষীরা যেন পুকুর, জলাশয় ও খালগুলো ইজারা নিতে পারে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। খননকৃত পুকুর, জলাশয় ও খালগুলোকে দেখভাল করা দায়িত্ব এলাকার মানুষদের নিতে হবে।
জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ডক্টর ফারহিনা আহমেদ, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিনাত ফৌজিয়া ও মৎস্য চাষী মিজানুল হক মিজান প্রমুখ। ঢাকা মহানগরীসহ ঢাকা জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৪টি ইজারা বিহীন খাস পুকুর ও জলাশয় সংস্কার, উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্পে ৯৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে।




















