কটিয়াদীতে লেবু চাষে ভাগ্য পরিবর্তন
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে লেবুচাষ করে সফল হয়েছেন পৌরসভার ভরারদিয়া গ্রামে কৃষক আমিনুল ইসলাম হারিছ, মল্লিক মিয়া, শফিকুল ইসলাম রাসেল, সাকিল আহমেদ ও সংগ্রাম মিয়াসহ অনেক কৃষক। লেবু চাষ করে বিঘা প্রতি বছরে লক্ষাধিক টাকার আয় করছেন কৃষকরা। লেবু বাগান পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ জাকির হোসেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কটিয়াদী পৌরসভার ভরারদিয়া গ্রামে প্রায় ৪০/৪৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন দেশী, সীডলেছ, চায়না থ্রি ও রাজশাহীর সীডলেচসহ বিভিন্ন জাতের লেবু। স্থানীয় কৃষকগণ জানান প্রায় ১২/১৫ বছর আগে লেবুর বাগান শুরু করেছিলেন ভরারদিয়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম হারিছ, মল্লিক মিয়া, শফিকুল ইসলাম রাসেল, সাকিল আহমেদ। বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলে রয়েছে সবুজ রঙের ছোট বড় লেবু। লেবু চাষে তাদের এমন সাফল্য দেখে এলাকার অনেক মানুষ উৎসাহিত হয়ে নিজেদের ফসলি জমিতেই করেছেন লেবু বাগান। লেবু বাগানে চারা রোপণের এক বছরের মধ্যেই ফল ধরা শুরু হয়।

ইতিমধ্যে কটিয়াদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে লেবু বাগান পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ জাকির হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কিশোররগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মোঃ সাদিকুর রহমান, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ শাহিনুল ইসলাম, জেলা মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন/কৃষি প্রকৌশলী মুখলেসুজ্জামান তালুকদার, কটিয়াদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আজহার মাহমুদ, পৌরসভার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মাইনুল হক মেনু, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, সাবেক পৌর কাউন্সিলার মো. জাকির হোসেন প্রমূখ।
লেবু চাষি সফল চাষি আমিনুল ইসলাম হারিছ সাথে, তিনি জানান আমি প্রথমে ৩-৪ বিঘা জমিতে লেবু চাষ করেছি। লেবুর গাছ লাগনোর এক বছর পর থেকেই ফল ধরা শুরু হয়। সপ্তাহে ২/৩দিন বাগান থেকে লেবু তুলে বাজারে নিয়ে নিজেই বিক্রি করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে বাগান থেকে লেবু কিনে নিয়ে যান। সারা বছর লেবু চাহিদা থাকায় লেবু চাষ করে আমি লাভবান। তিনি আরও জানান, বিঘাপ্রতি লেবু থেকে সকল খরচ বাদে বছরে প্রায় এক লক্ষ টাকার উপরে আয় করে থাকেন। লেবু চাষে খুব বেশি খরচও হয়না। এক বিঘা জমিতে লেবুর চারা রোপন করতে প্রায় ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। পরে সময় সময় পোকামাকড়ের ঔষধ ও নিমিত পরিচর্যা করলেই হয়। লেবু বাগানে নেই তেমন রোগবালাইয়ের ঝামেলা। সঠিক পরিচর্যায় একবার চারা রোপণ করার পর অন্তত ১০-১৫ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বাগান থেকে লেবুর চাহিদা মিঠিয়েও লেবুর চারা বিক্রি করা যায়। নতুন চাষিরা লেবুর চারা কিনে নিয়ে যায়।
কটিয়াদী পৌরসভার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম জানান, লেবু চাষ করে ভরারদিয়া গ্রামের কৃষক অনেক লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা আগে গতানুগতিকভাবে লেবু চাষ করতো। ফলন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নতজাতের লেবু চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি। বাগানে যেসকল সমস্যা ও রোগবালাই আছে সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি, যেমন আগাছা দমন, পোকামাকড় দমন এবং সঠিক সময়ে সার ও কিটনাশক প্রয়োগ ইত্যাদি।

কটিয়াদী উপজেলারকৃষি সম্প্রসারন অধিপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পৌরসভার ভরারদিয়া গ্রামে ৪০/৪৫ বিঘা জমিতে একসাথে লেবু চাষ করা হয়েছে। এখানে দেশীয়, সীডলেছ, চায়না থ্রি ও রাজশাহীর সীডলেচসহ বিভিন্ন জাতের লেবু চাষ করা হয়েছে। আমি লেবুর বাগান কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে প্রযুক্তিগত দিকসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। লেবু চাষ করে চাষিরা আর্থিভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া উন্নতমানের লেবুর মার্কেট তৈরি এবং চারা গাছ বিক্রি করতে কৃষি বিভাগ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে।




















