ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

প্রলয় ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৫১ বার পড়া হয়েছে

২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

লাল-সবুজের ফুটবলে যেন নতুন এক সময়ের সূচনা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের আগমনে বদলে গেছে দলের চেহারা। হংকংয়ের বিপক্ষে এখন সমানে সমান লড়াই হয়; ভারতের মতো শক্ত প্রতিপক্ষও নেমে আসে আন্ডারডগে। তবু সাম্প্রতিক সময়ে জেতা ম্যাচ ড্র করে হতাশা দেখা দিয়েছিল—হংকংয়ের সঙ্গে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া, নেপালের বিপক্ষে সমতায় থামতে হয়েছিল। সেই হতাশার বৃত্ত ভেঙে অবশেষে মঙ্গলবার ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফল্যের নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতকে হারানোর গৌরব ফিরল লাল-সবুজের ঘরে।

জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচটি ছিল এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের। দুই দলই আগেই মূল পর্বের দৌড় থেকে ছিটকে পড়ায় ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার। তবু গ্যালারি ভর্তি দর্শকই বলে দিচ্ছিল, এ লড়াই শুধু পয়েন্টের নয়, মর্যাদারও। গ্যালারির উচ্ছ্বাসে ভর করে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। রাকিবের অসাধারণ গতিময় দৌড় এবং ডি-বক্সের সামনে বাঁ পায়ের নিখুঁত পাস থেকে শেখ মোরসালিন আলতো টোকায় বল জালে জড়ান। মুহূর্তেই গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে।

এরপর ভারত গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ডিফেন্সের দেয়ালে দাঁড়িয়ে বাধা হয়ে থাকেন হামজা চৌধুরী। প্রথমার্ধেই ফাঁকা পোস্টের দিকে ছোড়া বিপজ্জনক এক বলকে তিনি দৌড়ে গিয়ে মাথা ছুঁইয়ে দলকে রক্ষা করেন। এদিকে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার তারিক কাজীর ইনজুরি বাংলাদেশকে কিছুটা চাপে ফেললেও ভারত সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আবারও বল দখলে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে। ভারত বেশ কিছু চেষ্টা করেও জালের দেখা পায়নি। শেষ সময়ে লাল-সবুজের ডি-বক্সে চাপ বাড়লেও হামজা-শমিত, জায়ান-তপুর দৃঢ় রক্ষণের সামনে ভারত অসহায় হয়ে পড়ে; মিতুল মারমারের গোলপোস্ট থাকল অক্ষতই।

ভারতকে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো হারাল বাংলাদেশ। দুই দলের ৩০ মুখোমুখি ম্যাচের ১৩টিতে ড্র এবং ১৩টিতে বাংলাদেশ হেরেছে। ২০০৩ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ জয় পেয়েছিল লাল-সবুজের দল। শিলংয়ে প্রথম লেগে গোলশূন্য ম্যাচে দাপট দেখানোর পর ঢাকায় আরও উজ্জ্বল হলো নবীন বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস।

ফুটবলপ্রেমীদের আশা হামজাদের এই জয়ের ধারাবাহিকতাই ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

লাল-সবুজের ফুটবলে যেন নতুন এক সময়ের সূচনা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের আগমনে বদলে গেছে দলের চেহারা। হংকংয়ের বিপক্ষে এখন সমানে সমান লড়াই হয়; ভারতের মতো শক্ত প্রতিপক্ষও নেমে আসে আন্ডারডগে। তবু সাম্প্রতিক সময়ে জেতা ম্যাচ ড্র করে হতাশা দেখা দিয়েছিল—হংকংয়ের সঙ্গে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া, নেপালের বিপক্ষে সমতায় থামতে হয়েছিল। সেই হতাশার বৃত্ত ভেঙে অবশেষে মঙ্গলবার ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফল্যের নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতকে হারানোর গৌরব ফিরল লাল-সবুজের ঘরে।

জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচটি ছিল এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের। দুই দলই আগেই মূল পর্বের দৌড় থেকে ছিটকে পড়ায় ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার। তবু গ্যালারি ভর্তি দর্শকই বলে দিচ্ছিল, এ লড়াই শুধু পয়েন্টের নয়, মর্যাদারও। গ্যালারির উচ্ছ্বাসে ভর করে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। রাকিবের অসাধারণ গতিময় দৌড় এবং ডি-বক্সের সামনে বাঁ পায়ের নিখুঁত পাস থেকে শেখ মোরসালিন আলতো টোকায় বল জালে জড়ান। মুহূর্তেই গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে।

এরপর ভারত গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ডিফেন্সের দেয়ালে দাঁড়িয়ে বাধা হয়ে থাকেন হামজা চৌধুরী। প্রথমার্ধেই ফাঁকা পোস্টের দিকে ছোড়া বিপজ্জনক এক বলকে তিনি দৌড়ে গিয়ে মাথা ছুঁইয়ে দলকে রক্ষা করেন। এদিকে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার তারিক কাজীর ইনজুরি বাংলাদেশকে কিছুটা চাপে ফেললেও ভারত সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আবারও বল দখলে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে। ভারত বেশ কিছু চেষ্টা করেও জালের দেখা পায়নি। শেষ সময়ে লাল-সবুজের ডি-বক্সে চাপ বাড়লেও হামজা-শমিত, জায়ান-তপুর দৃঢ় রক্ষণের সামনে ভারত অসহায় হয়ে পড়ে; মিতুল মারমারের গোলপোস্ট থাকল অক্ষতই।

ভারতকে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো হারাল বাংলাদেশ। দুই দলের ৩০ মুখোমুখি ম্যাচের ১৩টিতে ড্র এবং ১৩টিতে বাংলাদেশ হেরেছে। ২০০৩ সালে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ জয় পেয়েছিল লাল-সবুজের দল। শিলংয়ে প্রথম লেগে গোলশূন্য ম্যাচে দাপট দেখানোর পর ঢাকায় আরও উজ্জ্বল হলো নবীন বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস।

ফুটবলপ্রেমীদের আশা হামজাদের এই জয়ের ধারাবাহিকতাই ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।