ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেব্রুয়ারী মাসে রাঙ্গুনিয়ার মানুষ প্রমাণ করবে শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ- হুম্মাম কাদের চৌধুরী

কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২১ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ২২ নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে বিএনপি,, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, জিয়া মঞ্চ, শ্রমিক দল সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।নেতৃবৃন্দ তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করেন।

রাউজানে চৌধুরীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে কুরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়াস্থ কাদের নগর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সভায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে ফয়েজ কাদের চৌধুরী, হুমাম কাদের চৌধুরী সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে শুরুতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বাবার নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়ে শোকসভাতে প্রকম্পিত করেন। এবং বলেন আমার বাবা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন সেটা আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে সেটা প্রমাণ করবে।

নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দাবি করেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া সহ সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দিক হলো দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন। আধিপত্যবাদিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার জনপ্রিয়তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয় মেয়াদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া। যা দেশের ইতিহাসে বিরল। তিনি চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম-৬ রাউজান এবং চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। এসব সংসদীয় আসনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, বিগত আওয়ামী সরকার একদলীয় বাকশালি শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত ও এদেশকে ভারতীয় অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ভারতবিরোধী মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক নেতাদের কথিত আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করে। যা এদেশের দেশপ্রেমি জনতা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট সন্তান রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বাবাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছে। আমাকে গুম করে রাখা হয়েছিল। আমাদের পরিবারের ওপর কী অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছিল তা ভাষায় প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। তবে রাঙ্গুনিয়াবাসি আমাদের পাশে থেকে যে দোয়া করেছিল তা শোধ করা আমার পক্ষে মোটেও সম্ভব নয়। আমাকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আমি মনে করি আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করাটাই হবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি দেওয়ার প্রতিবাদ। মনে রাখবেন এবারের নির্বাচন হবে সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাবো সকল প্রকার দলাদলি মন থেকে ঝেড়ে ফেলে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
সভা শেষে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবু নগরী শহীদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মুনাজাত করেন।

উল্লেখ্য, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দণ্ডাদেশ অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেব্রুয়ারী মাসে রাঙ্গুনিয়ার মানুষ প্রমাণ করবে শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ- হুম্মাম কাদের চৌধুরী

আপডেট সময় : ০১:৩৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২১ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ২২ নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে বিএনপি,, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, জিয়া মঞ্চ, শ্রমিক দল সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।নেতৃবৃন্দ তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করেন।

রাউজানে চৌধুরীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে কুরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়াস্থ কাদের নগর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সভায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে ফয়েজ কাদের চৌধুরী, হুমাম কাদের চৌধুরী সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে শুরুতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বাবার নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়ে শোকসভাতে প্রকম্পিত করেন। এবং বলেন আমার বাবা শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নির্দোষ ছিলেন সেটা আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে সেটা প্রমাণ করবে।

নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দাবি করেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া সহ সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দিক হলো দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন। আধিপত্যবাদিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার জনপ্রিয়তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয় মেয়াদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া। যা দেশের ইতিহাসে বিরল। তিনি চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম-৬ রাউজান এবং চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। এসব সংসদীয় আসনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, বিগত আওয়ামী সরকার একদলীয় বাকশালি শাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত ও এদেশকে ভারতীয় অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে ভারতবিরোধী মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক নেতাদের কথিত আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করে। যা এদেশের দেশপ্রেমি জনতা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট সন্তান রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বাবাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছে। আমাকে গুম করে রাখা হয়েছিল। আমাদের পরিবারের ওপর কী অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছিল তা ভাষায় প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। তবে রাঙ্গুনিয়াবাসি আমাদের পাশে থেকে যে দোয়া করেছিল তা শোধ করা আমার পক্ষে মোটেও সম্ভব নয়। আমাকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আমি মনে করি আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করাটাই হবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি দেওয়ার প্রতিবাদ। মনে রাখবেন এবারের নির্বাচন হবে সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাবো সকল প্রকার দলাদলি মন থেকে ঝেড়ে ফেলে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
সভা শেষে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবু নগরী শহীদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মুনাজাত করেন।

উল্লেখ্য, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দণ্ডাদেশ অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর করা হয়।