ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে আমন ধানের বাম্পার ফলন

আতিয়া আফিফা
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ অঞ্চলে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে সোনালি স্বস্তির হাসি। ধারাবাহিক রোদ-বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া, এবং কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের নিবিড় তদারকির ফলে বছরের অন্যতম সফল মৌসুম পার করছে এ অঞ্চলের কৃষক সমাজ। বিগত কয়েক বছরের দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামলে এ মৌসুমে মাঠজুড়ে নেমেছে উৎসবের আমেজ।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহের বিভিন্ন গ্রামজুড়ে ধান কাটার ব্যস্ততা, আঙিনায় মাড়াই-ঝাড়াই আর নতুন ধান ভরার আনন্দ। কৃষকদের হিসেবে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বীরগুছিনা গ্রামের কৃষক সিতেন চন্দ্র বসাক বলেন, “এবার ধান খুব ভালো হয়েছে। খরচ উঠিয়ে লাভ থাকবে বলে মনে হচ্ছে।” একই গ্রামের আরেক কৃষক জানান, শ্রমিক সংকট থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত কাটার কাজ করছেন।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে সোনালি স্বস্তির হাসি। ধারাবাহিক রোদ-বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া, এবং কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের নিবিড় তদারকির ফলে বছরের অন্যতম সফল মৌসুম পার করছে এ অঞ্চলের কৃষক সমাজ। বিগত কয়েক বছরের দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামলে এ মৌসুমে মাঠজুড়ে নেমেছে উৎসবের আমেজ।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহের বিভিন্ন গ্রামজুড়ে ধান কাটার ব্যস্ততা, আঙিনায় মাড়াই-ঝাড়াই আর নতুন ধান ভরার আনন্দ। কৃষকদের হিসেবে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২,৬৪,১১১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৯১,১৫৭ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলনও সন্তোষজনক। হাইব্রিড জাতের ফলন প্রতি হেক্টরে ৩.৭৫ মেট্রিক টন, যেখানে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ফলন প্রতি হেক্টরে ২.৮০ মেট্রিক টন এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৩.২৭ মেট্রিক টন।

ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, এ বছর আবহাওয়া একেবারেই অনুকূলে ছিল। সে কারণে ফলন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এসেছে।

ময়মনসিংহের কিছু নিম্নাঞ্চলে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা গেলেও তা বড় ধরনের ক্ষতি করেনি। ধান পাকতে শুরু করলে ইঁদুর আক্রমণ বাড়ে বলে কৃষকরা জানান। এ ছাড়া কিছু মাঠে গোড়াপচা ও পাতাকাটা পোকার আক্রমণ দেখা গেলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষকদের মনে রয়েছে বাজারদর নিয়ে শঙ্কা। সরকারি সংগ্রহ শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও এখনো অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহে আমন ধানের বাম্পার ফলন

আপডেট সময় : ১০:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহ অঞ্চলে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে সোনালি স্বস্তির হাসি। ধারাবাহিক রোদ-বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া, এবং কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের নিবিড় তদারকির ফলে বছরের অন্যতম সফল মৌসুম পার করছে এ অঞ্চলের কৃষক সমাজ। বিগত কয়েক বছরের দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামলে এ মৌসুমে মাঠজুড়ে নেমেছে উৎসবের আমেজ।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহের বিভিন্ন গ্রামজুড়ে ধান কাটার ব্যস্ততা, আঙিনায় মাড়াই-ঝাড়াই আর নতুন ধান ভরার আনন্দ। কৃষকদের হিসেবে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বীরগুছিনা গ্রামের কৃষক সিতেন চন্দ্র বসাক বলেন, “এবার ধান খুব ভালো হয়েছে। খরচ উঠিয়ে লাভ থাকবে বলে মনে হচ্ছে।” একই গ্রামের আরেক কৃষক জানান, শ্রমিক সংকট থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত কাটার কাজ করছেন।

ময়মনসিংহ অঞ্চলে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে সোনালি স্বস্তির হাসি। ধারাবাহিক রোদ-বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া, এবং কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের নিবিড় তদারকির ফলে বছরের অন্যতম সফল মৌসুম পার করছে এ অঞ্চলের কৃষক সমাজ। বিগত কয়েক বছরের দুর্যোগ ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামলে এ মৌসুমে মাঠজুড়ে নেমেছে উৎসবের আমেজ।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহের বিভিন্ন গ্রামজুড়ে ধান কাটার ব্যস্ততা, আঙিনায় মাড়াই-ঝাড়াই আর নতুন ধান ভরার আনন্দ। কৃষকদের হিসেবে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি বিঘায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২,৬৪,১১১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৯১,১৫৭ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলনও সন্তোষজনক। হাইব্রিড জাতের ফলন প্রতি হেক্টরে ৩.৭৫ মেট্রিক টন, যেখানে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ফলন প্রতি হেক্টরে ২.৮০ মেট্রিক টন এবং গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৩.২৭ মেট্রিক টন।

ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, এ বছর আবহাওয়া একেবারেই অনুকূলে ছিল। সে কারণে ফলন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এসেছে।

ময়মনসিংহের কিছু নিম্নাঞ্চলে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা গেলেও তা বড় ধরনের ক্ষতি করেনি। ধান পাকতে শুরু করলে ইঁদুর আক্রমণ বাড়ে বলে কৃষকরা জানান। এ ছাড়া কিছু মাঠে গোড়াপচা ও পাতাকাটা পোকার আক্রমণ দেখা গেলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষকদের মনে রয়েছে বাজারদর নিয়ে শঙ্কা। সরকারি সংগ্রহ শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও এখনো অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন