ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের নৌযাত্রা বিশ্বমঞ্চে

আলি হায়দার, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:২০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা (IMO) এর ৩৪তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ তার নৌপরিবহন খাতের অগ্রগতি, বৈশ্বিক অবদান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেন।

বিশ্বের ১৭৬টি সদস্য দেশ অংশ নেওয়া এ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য আইএমও কাউন্সিল নির্বাচন। বাংলাদেশ এবারও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে উপদেষ্টা সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানান।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ একটি সমুদ্রনির্ভর জাতি। গত এক দশকে আমরা একটি উপকূলীয় অর্থনীতি থেকে উদীয়মান মেরিটাইম দেশে রূপান্তরিত হয়েছি।” তিনি জানান, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা এই তিনটি প্রধান সমুদ্রবন্দর দ্রুত ডিজিটালাইজেশন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ কাজ দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য প্রবাহে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তিনি বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ২১ হাজারেরও বেশি নাবিক আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। “তারা শুধু নাবিক নন, তারা বিশ্ব সমুদ্রপথে বাংলাদেশের দূত,” বলেন উপদেষ্টা।

আইএমও’র সাব-কমিটি অন ইমপ্লিমেন্টেশন অব আইএমও ইন্সট্রুমেন্টস–এ বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল বৈশ্বিক সামুদ্রিক নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের Three Zeros-Zero Poverty, Zero Unemployment, Zero Carbon Emission দর্শনকে বাংলাদেশের মেরিটাইম খাত উন্নয়নের মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এবং ব্লু ইকোনমি রোডম্যাপকে দেশের সামুদ্রিক ভবিষ্যতের ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ—

  • আইএমও কনভেনশনসমূহ বাস্তবায়ন করছে,

  • সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে,

  • MARPOL–সম্মত বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ করছে।

তিনি আশ্বাস দেন, কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল সামুদ্রিক দেশগুলোর প্রযুক্তি ও অর্থায়নে প্রবেশাধিকার, নাবিকদের প্রশিক্ষণ, এবং লো-কার্বন শিপিং এ বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করবে।

অধিবেশন চলাকালে উপদেষ্টা পাকিস্তানের মেরিটাইম বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ জুনায়েদ আনোয়ার এবং বেলিজের Minister of Public Utilities, Energy & Logistics মিশেল চেবাটের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম করাচি নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণ, দুই দেশের শিপিং কর্পোরেশনগুলোর সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই পক্ষই পারস্পরিক সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বেলিজের সঙ্গে আলোচনায় জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, নৌবাণিজ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়। ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর মেরিন ক্যাডেটদের জন্য চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে বৃত্তি প্রদানের প্রস্তাবের প্রশংসা করেন বেলিজের মন্ত্রী।

অধিবেশনের বিভিন্ন সাইড ইভেন্ট, নেটওয়ার্কিং সেশন ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কাউন্সিল প্রার্থিতা ও বৈশ্বিক অবদান তুলে ধরে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারীসহ সরকারি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নৌযাত্রা বিশ্বমঞ্চে

আপডেট সময় : ০১:২০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা (IMO) এর ৩৪তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ তার নৌপরিবহন খাতের অগ্রগতি, বৈশ্বিক অবদান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেন।

বিশ্বের ১৭৬টি সদস্য দেশ অংশ নেওয়া এ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য আইএমও কাউন্সিল নির্বাচন। বাংলাদেশ এবারও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে উপদেষ্টা সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানান।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ একটি সমুদ্রনির্ভর জাতি। গত এক দশকে আমরা একটি উপকূলীয় অর্থনীতি থেকে উদীয়মান মেরিটাইম দেশে রূপান্তরিত হয়েছি।” তিনি জানান, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা এই তিনটি প্রধান সমুদ্রবন্দর দ্রুত ডিজিটালাইজেশন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ কাজ দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য প্রবাহে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তিনি বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ২১ হাজারেরও বেশি নাবিক আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। “তারা শুধু নাবিক নন, তারা বিশ্ব সমুদ্রপথে বাংলাদেশের দূত,” বলেন উপদেষ্টা।

আইএমও’র সাব-কমিটি অন ইমপ্লিমেন্টেশন অব আইএমও ইন্সট্রুমেন্টস–এ বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল বৈশ্বিক সামুদ্রিক নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের Three Zeros-Zero Poverty, Zero Unemployment, Zero Carbon Emission দর্শনকে বাংলাদেশের মেরিটাইম খাত উন্নয়নের মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এবং ব্লু ইকোনমি রোডম্যাপকে দেশের সামুদ্রিক ভবিষ্যতের ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ—

  • আইএমও কনভেনশনসমূহ বাস্তবায়ন করছে,

  • সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে,

  • MARPOL–সম্মত বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ করছে।

তিনি আশ্বাস দেন, কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল সামুদ্রিক দেশগুলোর প্রযুক্তি ও অর্থায়নে প্রবেশাধিকার, নাবিকদের প্রশিক্ষণ, এবং লো-কার্বন শিপিং এ বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করবে।

অধিবেশন চলাকালে উপদেষ্টা পাকিস্তানের মেরিটাইম বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ জুনায়েদ আনোয়ার এবং বেলিজের Minister of Public Utilities, Energy & Logistics মিশেল চেবাটের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম করাচি নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণ, দুই দেশের শিপিং কর্পোরেশনগুলোর সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই পক্ষই পারস্পরিক সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বেলিজের সঙ্গে আলোচনায় জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, নৌবাণিজ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়। ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর মেরিন ক্যাডেটদের জন্য চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে বৃত্তি প্রদানের প্রস্তাবের প্রশংসা করেন বেলিজের মন্ত্রী।

অধিবেশনের বিভিন্ন সাইড ইভেন্ট, নেটওয়ার্কিং সেশন ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার কাউন্সিল প্রার্থিতা ও বৈশ্বিক অবদান তুলে ধরে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারীসহ সরকারি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।