গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন দণ্ডনীয়, আইন প্রয়োগে ‘অরণ্য’-এর আবেদন
- আপডেট সময় : ০১:২৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬৫ বার পড়া হয়েছে
গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড টাঙানো বন্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবান্ধব সামাজিক সংগঠন ‘অরণ্য’। বুধবার (২৫ নভেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি আঃ ছোবাহান জুয়েল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়কের পাশের গাছগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে পেরেক ঠুকে পোস্টার ও বিজ্ঞাপন সামগ্রী ঝুলানো হচ্ছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, কাণ্ডে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে এবং জীবাণুর সংক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলস্বরূপ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গাছে পেরেক ঠোকা—বাংলাদেশে ফৌজদারি অপরাধ
এই কাজটি তিনটি আইনে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ—
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যেকোনো কাজ দণ্ডনীয় অপরাধ; গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠোকাও পরিবেশগত ক্ষতি হিসেবে গণ্য।
বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত ২০১৯)
সরকারি রাস্তার পাশের বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত করা ফৌজদারি অপরাধ।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭
জীববৈচিত্র্য বা উদ্ভিদের ক্ষতি সৃষ্টিকারী যেকোনো কাজ শাস্তিযোগ্য।
➡ দণ্ড: ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
পরিবেশবিদদের মতে, গাছের গায়ে পেরেক ঢোকার ফলে আক্রান্ত স্থানে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়, যা গাছকে দ্রুত দুর্বল করে দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গাছ মারা যায়।
সংগঠনের সভাপতি আঃ ছোবাহান জুয়েল বলেন, গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন টাঙানো পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। আইনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। অবিলম্বে কঠোরভাবে আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এ ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন টাঙানো বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং, অভিযান পরিচালনা, পেরেক অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগের জন্য ‘অরণ্য’কে সাধুবাদ জানাই। সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এসব অভিযান জোরদার করব।




















