ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

মোহাম্মদ জাকির হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মুখোমুখি। হাসপাতালের ৫০০ শয্যার সেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সহকারী স্টাফের সংখ্যা যথেষ্ট নয়, ফলে রোগীরা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ২০০ চিকিৎসকের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭৭ জন, এবং তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছুটি, ট্রেনিং বা অন্যান্য কারণে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।

পরিষ্কার-পরিছন্নতা বিভাগের অবস্থাও দুঃখজনক। ২০০ জন কর্মীর মধ্যে কেবল ৪০ জনই উপস্থিত, যার মধ্যে হরিজন সম্প্রদায়ের মাত্র ৯ জন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল; যেখানে আনসারের ১৫০ সদস্য থাকা প্রয়োজন সেখানে রয়েছে মাত্র ৩০ জন। তদুপরি, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ৫০০ নার্স, অথচ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫৮ জন।

ওষুধের ঘাটতিও রোগীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীরা অভিযোগ করছেন, হাসপাতাল থেকে দূর্লভ ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, গ্লাভস ইত্যাদি না পেয়ে বহিরাগত বাজার থেকে উচ্চ মূল্যে কিনে আনতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ও গ্যাসটিক ওষুধই রোগীদের দেওয়া হয়।

সরেজমিনে সার্জারি বিভাগে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, মারফত আলী (৬৫), মুসা মিয়া (২৫), মঞ্জুরুল হক (৬৫) সহ অন্তত ২০ জন রোগী জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তারা পাচ্ছেন না।

উল্লেখযোগ্য যে, ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজের পরিচালকের পদ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শূন্য, এছাড়া প্রশাসনিক হিসাব-রক্ষণ কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদও খালি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ হাসপাতালটিতে সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালনার দাবি জানাচ্ছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে এক্সরে কার্যক্রম সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু রাখা হয়েছে, এবং প্যাথলজি বিভাগ রাত ১০টা পর্যন্ত সেবা দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি হওয়ারও অভিযোগ আছে। সম্প্রতি কোটি টাকা মূল্যের হিস্ট্রি প্যাথলজি যন্ত্রের হসিদ পাওয়া যাচ্ছে না। ল্যাব ইনচার্জ তানভীর আহমেদ বিষয়টি ডিজি বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

ওষুধের ঘাটতি নিয়ে ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং ৫০০ শয্যার বিপরীতে ৭০০-এর বেশি রোগীর চাহিদা পূরণের চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু ঘাটতি হয়ে থাকে।”

স্থানীয়রা মনে করছেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসনের জন্য প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেট সময় : ০১:০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মুখোমুখি। হাসপাতালের ৫০০ শয্যার সেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সহকারী স্টাফের সংখ্যা যথেষ্ট নয়, ফলে রোগীরা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ২০০ চিকিৎসকের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭৭ জন, এবং তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছুটি, ট্রেনিং বা অন্যান্য কারণে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।

পরিষ্কার-পরিছন্নতা বিভাগের অবস্থাও দুঃখজনক। ২০০ জন কর্মীর মধ্যে কেবল ৪০ জনই উপস্থিত, যার মধ্যে হরিজন সম্প্রদায়ের মাত্র ৯ জন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল; যেখানে আনসারের ১৫০ সদস্য থাকা প্রয়োজন সেখানে রয়েছে মাত্র ৩০ জন। তদুপরি, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ৫০০ নার্স, অথচ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫৮ জন।

ওষুধের ঘাটতিও রোগীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীরা অভিযোগ করছেন, হাসপাতাল থেকে দূর্লভ ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, গ্লাভস ইত্যাদি না পেয়ে বহিরাগত বাজার থেকে উচ্চ মূল্যে কিনে আনতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ও গ্যাসটিক ওষুধই রোগীদের দেওয়া হয়।

সরেজমিনে সার্জারি বিভাগে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, মারফত আলী (৬৫), মুসা মিয়া (২৫), মঞ্জুরুল হক (৬৫) সহ অন্তত ২০ জন রোগী জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তারা পাচ্ছেন না।

উল্লেখযোগ্য যে, ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজের পরিচালকের পদ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শূন্য, এছাড়া প্রশাসনিক হিসাব-রক্ষণ কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদও খালি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ হাসপাতালটিতে সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালনার দাবি জানাচ্ছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে এক্সরে কার্যক্রম সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু রাখা হয়েছে, এবং প্যাথলজি বিভাগ রাত ১০টা পর্যন্ত সেবা দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি হওয়ারও অভিযোগ আছে। সম্প্রতি কোটি টাকা মূল্যের হিস্ট্রি প্যাথলজি যন্ত্রের হসিদ পাওয়া যাচ্ছে না। ল্যাব ইনচার্জ তানভীর আহমেদ বিষয়টি ডিজি বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

ওষুধের ঘাটতি নিয়ে ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং ৫০০ শয্যার বিপরীতে ৭০০-এর বেশি রোগীর চাহিদা পূরণের চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু ঘাটতি হয়ে থাকে।”

স্থানীয়রা মনে করছেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসনের জন্য প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন।