ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীর অসহায় যুবকের পাশে প্রলয় সম্পাদক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯৯ বার পড়া হয়েছে

ফুলবাড়ী উপজেলার এক প্রান্তে বহুদিন ধরে চিকিৎসাহীন জীবন কাটাচ্ছিলেন গোলজার হোসেন নামের এক প্রতিবন্ধী যুবক ও তার মা। সংসারে আয় নেই, নেই চিকিৎসার সুযোগ। ঘরও ভাঙাচোরা বৃষ্টির দিনে পানি পড়ে, শীতে ঠান্ডা ঢোকে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই বেঁচে ছিলেন তারা।

দৈনিক নিখাদ খবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব দুঃসহ বাস্তবতার কথা উঠে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে মানবিক ব্যক্তিত্ব এবং দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক লায়ন মির্জা সোবেদ আলী রাজার। সংবাদটি পড়ে তিনি দ্রুত তার প্রতিনিধির মাধ্যমে ফুলবাড়ী এলাকায় খোঁজ নেন। প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে গোলজার ও তার মায়ের পরিস্থিতি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য তাকে জানান।

পরিস্থিতি বুঝেই মির্জা সোবেদ আলী রাজা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিবারটিকে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য দুই বান টিন পাঠিয়ে দেন। পাশাপাশি গোলজারের প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন কেন এতদিন হয়নি সে বিষয়েও খোঁজ নেন। জানা যায়, গোলজার যোগ্য হলেও মোবাইল ফোন না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও ভাতার তথ্য না পাওয়ায় এতদিন ভাতা পাননি।

এই অবস্থায় তিনি তার প্রতিনিধি মারফত গোলজারের হাতে একটি নতুন মোবাইল ফোন পৌঁছে দেন, সঙ্গে দেন নগদ ১০ হাজার টাকা, যাতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় এবং ভাতার কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

এতটুকুতেই থামেননি তিনি। ভাঙা ঘর মেরামতের জন্য দেন দুই বান টিন এবং গোলজারের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাহীন অবস্থার কথা বিবেচনা করে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠান, যাতে এই অসহায় প্রতিবন্ধী যুবকের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে দেখার কথা জানান।

স্থানীয়দের ভাষায়, “একটি সংবাদ অনেক সময়ই কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।” গোলজার ও তার মায়ের মুখেও এখন সেই আশার আলো। ঘর মেরামতের জন্য টিন এসেছে, হাতের কাছে মোবাইল আছে, ভাতার কাগজপত্রের পথ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, জেলা প্রশাসনও এখন তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

লায়ন মির্জা সোবেদ আলী রাজা বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। খবর প্রকাশ না হলে হয়তো আমি বিষয়টি জানতেই পারতাম না। এখন দায়িত্ববোধ থেকেই চেষ্টা করছি অন্তত একজনের কষ্ট কিছুটা কমুক।”

ফুলবাড়ীর মানুষ বলছে, এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিল, মানবিকতা কখনও দূরে থাকে না, শুধু কেউ একজন এগিয়ে আসলেই বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের পুরো জীবন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলবাড়ীর অসহায় যুবকের পাশে প্রলয় সম্পাদক

আপডেট সময় : ১২:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

ফুলবাড়ী উপজেলার এক প্রান্তে বহুদিন ধরে চিকিৎসাহীন জীবন কাটাচ্ছিলেন গোলজার হোসেন নামের এক প্রতিবন্ধী যুবক ও তার মা। সংসারে আয় নেই, নেই চিকিৎসার সুযোগ। ঘরও ভাঙাচোরা বৃষ্টির দিনে পানি পড়ে, শীতে ঠান্ডা ঢোকে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই বেঁচে ছিলেন তারা।

দৈনিক নিখাদ খবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব দুঃসহ বাস্তবতার কথা উঠে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে মানবিক ব্যক্তিত্ব এবং দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক লায়ন মির্জা সোবেদ আলী রাজার। সংবাদটি পড়ে তিনি দ্রুত তার প্রতিনিধির মাধ্যমে ফুলবাড়ী এলাকায় খোঁজ নেন। প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে গোলজার ও তার মায়ের পরিস্থিতি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য তাকে জানান।

পরিস্থিতি বুঝেই মির্জা সোবেদ আলী রাজা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিবারটিকে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তার জন্য দুই বান টিন পাঠিয়ে দেন। পাশাপাশি গোলজারের প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন কেন এতদিন হয়নি সে বিষয়েও খোঁজ নেন। জানা যায়, গোলজার যোগ্য হলেও মোবাইল ফোন না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও ভাতার তথ্য না পাওয়ায় এতদিন ভাতা পাননি।

এই অবস্থায় তিনি তার প্রতিনিধি মারফত গোলজারের হাতে একটি নতুন মোবাইল ফোন পৌঁছে দেন, সঙ্গে দেন নগদ ১০ হাজার টাকা, যাতে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় এবং ভাতার কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

এতটুকুতেই থামেননি তিনি। ভাঙা ঘর মেরামতের জন্য দেন দুই বান টিন এবং গোলজারের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাহীন অবস্থার কথা বিবেচনা করে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠান, যাতে এই অসহায় প্রতিবন্ধী যুবকের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বিষয়টি দ্রুততার সঙ্গে দেখার কথা জানান।

স্থানীয়দের ভাষায়, “একটি সংবাদ অনেক সময়ই কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।” গোলজার ও তার মায়ের মুখেও এখন সেই আশার আলো। ঘর মেরামতের জন্য টিন এসেছে, হাতের কাছে মোবাইল আছে, ভাতার কাগজপত্রের পথ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, জেলা প্রশাসনও এখন তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

লায়ন মির্জা সোবেদ আলী রাজা বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। খবর প্রকাশ না হলে হয়তো আমি বিষয়টি জানতেই পারতাম না। এখন দায়িত্ববোধ থেকেই চেষ্টা করছি অন্তত একজনের কষ্ট কিছুটা কমুক।”

ফুলবাড়ীর মানুষ বলছে, এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিল, মানবিকতা কখনও দূরে থাকে না, শুধু কেউ একজন এগিয়ে আসলেই বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের পুরো জীবন।