রাঙ্গুনিয়ায় গুমাইবিলে আমন ধান কাটার মহোৎসব, বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৮ বার পড়া হয়েছে
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধানের গোলা হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটার ব্যস্ততা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে এখন কৃষকের আমন কাটার উৎসব, আর সেই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে বাহারি জাতের ধানের বাম্পার ফলন। কৃষাণীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের নবান্ন উৎসবকে ঘিরে নতুন ধানের নানা আয়োজনের।
রবিবার সকালে গুমাইবিল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ ধান কাটছেন, কেউ কাঁধে বহন করে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন শীষভরা ধানের বোঝা। শ্রমজীবী কৃষকের দল কাজ করছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ধানের সোনালি রঙে ভরে উঠেছে বিলের বিশাল মাঠ।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, গুমাইবিল দেশের কৃষি সম্ভাবনার এক বিশাল ক্ষেত্র। এখানে প্রতি আমন ও বোরো মৌসুমে প্রায় ৩২০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়।
তিনি বলেন, গত বছর আমন মৌসুমে প্রতি হেক্টরে ৫.৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর বন্যা কম হওয়ায় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ায় ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
তিনি আরও জানান, পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন ব্যয় কমাতে পেরেছেন। এতে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।
কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, গুমাইবিলের ৯৫ শতাংশ জমি বর্তমানে দুই ফসলি। ধাপে ধাপে কৃষকদের উৎসাহিত করে এই জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মেটাতে ইতোমধ্যে সোলারচালিত সেচব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ কানি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে।
তিনি জানান, তিন-সাড়ে তিন মাস শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হতো। সেচ সুবিধা বাড়লে শুষ্ক মৌসুমে আরও চাষাবাদের সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় কৃষকদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান ইমরুল কায়েস।
এ ছাড়া গুমাইবিল সংলগ্ন এলাকায় নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে যাতে কৃষকরা সহজে মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে পারেন।
গুমাইবিলের পাশে কাপ্তাই সড়ক, গাবতলী সড়ক ও হোসনাবাদ সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, প্রাকৃতিক এ সম্পদ রক্ষায় কঠোর নজরদারি চলছে। অভিযোগ পেলেই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষি উন্নয়ন ছাড়া দেশের আর্থিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই কৃষকদের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। গুমাইবিলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সোনালি ধানের বাম্পার ফলনে গুমাইবিলজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠতে শুরু হওয়ায় তাদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি, আর গ্রাম্য নবান্ন উৎসবের প্রস্তুতিতে জমে উঠছে পুরো রাঙ্গুনিয়া।




















