১২শ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিরে উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো সিজনের প্রথম তিন জাহাজ
- আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ নয় মাসের বিরতির পর আবারও শুরু হলো কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটের পর্যটকবাহী জাহাজের যাত্রা। আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে মৌসুমের প্রথম তিনটি জাহাজ এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটক সাগরপথে রওনা করে এই তিনটি জাহাজ।
ভোর থেকেই ঘাটে ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকরা। জাহাজে ওঠার আগে তাদের টিকিট যাচাই করা হয় এবং পরিবেশবান্ধব অ্যালুমিনিয়াম পানির বোতল উপহার দেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ঢাকা থেকে যাওয়া পর্যটক অরূপ হোসেন জানান, প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাচ্ছি, রোমাঞ্চকর অনুভূতি। ব্যবস্থাপনাও বেশ ভালো লাগছে।
সরকারি নির্দেশনা মেনে এবার থেকে দ্বীপে রাত্রিযাপন করা যাবে, যা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমোদিত জাহাজে করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পারবেন। টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে করতে হবে এবং প্রতিটি টিকিটে থাকতে হবে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড। কিউআর কোড ছাড়া কোনো টিকিটকে নকল ধরা হবে।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, অনুমতি পাওয়া ছয়টি জাহাজের মধ্যে প্রথম দিনে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী তিনটি জাহাজ যাত্রা করেছে। তিনি বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণ কিছুটা দীর্ঘ হলেও দ্বীপের সৌন্দর্য সেই ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে বলে আশাবাদী পর্যটকরা। চট্টগ্রাম থেকে আসা রোকসানা আলী বলেন, পথটা লম্বা, তবু সেন্টমার্টিনের প্রশান্তি সব কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।
পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, সমুদ্রপথ ও দ্বীপে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত।” জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন আমাদের জাতীয় সম্পদ। পরিবেশ রক্ষার জন্য ১২ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যটক, জাহাজ মালিক ও স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন।
নতুন নির্দেশাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ, উচ্চশব্দ ও বারবিকিউ পার্টি বন্ধ, কেয়াবন ও কেয়া ফল সংগ্রহ–বিক্রয় নিষিদ্ধ, প্রবাল, শামুক–ঝিনুক, কাছিম, পাখি ও রাজকাঁকড়া আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ, মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চলাচল বন্ধ এবং প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ। পরিবেশবান্ধব হিসেবে পর্যটকদের ব্যক্তিগত ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, অ্যালুমিনিয়াম বোতলের ব্যবহার প্লাস্টিক দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যদিও জেটিঘাটে নির্মাণ কাজ এখনো চলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মো. আলী হায়দার জানিয়েছেন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসন আশা করছেন, নতুন বিধিনিষেধ ও দায়িত্বশীল পর্যটন মানা হলে সেন্টমার্টিন আবারও তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল পর্যটন নিশ্চিত হবে।


























