ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভিভাবক উদ্বিগ্ন, শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ আমতলী ১৫২ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার অনিশ্চয়তা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৯৮ বার পড়া হয়েছে

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে আমতলী উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সোমবার বার্ষিক পরীক্ষার কার্যক্রম বর্জন করেছেন। নির্ধারিত ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা না নেওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষকরা দায়সারা ভাবে বিকল্প হিসেবে শারীরিক শিক্ষার মৌখিক পরীক্ষা নেন, তবে তাতেও অনেক শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এতে অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

শিক্ষক নেতারা জানান, গত ৮ নভেম্বর থেকে সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ১০ নভেম্বর কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও ১৭ দিন পরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনে নামেন।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার ইংরেজি বিষয়ের বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেন সহকারী শিক্ষকরা। ফলে উপজেলার সব স্কুলেই পরীক্ষার খাতা না দিয়ে প্রধান শিক্ষকরা মৌখিক শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

সোমবার দুপুরে আমতলী বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক জাকির খান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই কক্ষে বসে আছেন, কিন্তু কোনো লিখিত প্রশ্নপত্র কিংবা খাতা বিতরণ করা হয়নি।

আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতি, রাজদ্বীপ বিশ্বাস ও হিমাদ্রী জানায়, তারা ইংরেজি পরীক্ষা দিতে এসেছিল কিন্তু শিক্ষকরা পরীক্ষা নেননি। পরে কিছু শিক্ষার্থীকে শারীরিক শিক্ষার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়।

অভিভাবক মালামনি বলেন, “শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করায় ইংরেজি পরীক্ষা হয়নি। এতে বাচ্চাদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

আঙ্গুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, সরকার শিক্ষকদের দাবি মানেনি। সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করেছেন। প্রয়োজনে ছুটির মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চাওড়া পাতাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম নিশ্চিত করেন, উপজেলার ১৫২টি বিদ্যালয়ের কোথাও সোমবার কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম দাবি করেন, “বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।” তবে কোন বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অভিভাবক উদ্বিগ্ন, শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ আমতলী ১৫২ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৫:০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে আমতলী উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সোমবার বার্ষিক পরীক্ষার কার্যক্রম বর্জন করেছেন। নির্ধারিত ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা না নেওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষকরা দায়সারা ভাবে বিকল্প হিসেবে শারীরিক শিক্ষার মৌখিক পরীক্ষা নেন, তবে তাতেও অনেক শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এতে অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

শিক্ষক নেতারা জানান, গত ৮ নভেম্বর থেকে সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ১০ নভেম্বর কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও ১৭ দিন পরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনে নামেন।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার ইংরেজি বিষয়ের বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেন সহকারী শিক্ষকরা। ফলে উপজেলার সব স্কুলেই পরীক্ষার খাতা না দিয়ে প্রধান শিক্ষকরা মৌখিক শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

সোমবার দুপুরে আমতলী বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক জাকির খান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই কক্ষে বসে আছেন, কিন্তু কোনো লিখিত প্রশ্নপত্র কিংবা খাতা বিতরণ করা হয়নি।

আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতি, রাজদ্বীপ বিশ্বাস ও হিমাদ্রী জানায়, তারা ইংরেজি পরীক্ষা দিতে এসেছিল কিন্তু শিক্ষকরা পরীক্ষা নেননি। পরে কিছু শিক্ষার্থীকে শারীরিক শিক্ষার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়।

অভিভাবক মালামনি বলেন, “শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করায় ইংরেজি পরীক্ষা হয়নি। এতে বাচ্চাদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

আঙ্গুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, সরকার শিক্ষকদের দাবি মানেনি। সহকারী শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করেছেন। প্রয়োজনে ছুটির মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চাওড়া পাতাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম নিশ্চিত করেন, উপজেলার ১৫২টি বিদ্যালয়ের কোথাও সোমবার কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম দাবি করেন, “বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।” তবে কোন বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি।