স্বচ্ছ তদন্ত ও নিঃশর্ত ন্যায়বিচারের দাবি সাংবাদিক মহলের
থাই ভিসা ও অবৈধ সিম চক্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে সাংবাদিক সুজন গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৫৮ বার পড়া হয়েছে
থাই ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ সিম কারবারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় নীলফামারীতে সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইংরেজি জাতীয় দৈনিক দি ডেইলি স্টেট–এর নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি আল হেদায়েতুল্লা সিদ্দিকী সুজনকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার ও ১৯ দিনের কারাভোগ করানোর ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর সুজনকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়। সাংবাদিক সুজন জানান, গত ২৩ অক্টোবর তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীর হাট এলাকায় ‘সংবাদ সংগ্রহের কথা বলে’ ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করে। পরিস্থিতি অবনতি হলে তিনি পুলিশে খবর দেন এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সহকর্মীরা বলেন, ঘটনার সময় সুজনের গলায় বৈধ সাংবাদিক পরিচয়পত্র ছিল, যার ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাকে ‘ভুয়া ডিবি পরিচয় প্রদান’ অভিযোগে আদালতে সোপর্দ করা হয়, যা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে রহস্যজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অজ্ঞাত কয়েকজন ৫০ হাজার টাকা লুট করেছে এবং চক্রের একজনকে মারধর করেছে। সাংবাদিক মহলের প্রশ্ন, নীলফামারী থেকে আসা একজন একাকী রিপোর্টার কীভাবে এমন ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারেন? তাদের মতে, পুরো ঘটনাটি সাজানো ও বানোয়াট—যার উদ্দেশ্য তাকে ফাঁসানো ও ভয় দেখানো।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, থাই ভিসা ও অবৈধ সিম সিন্ডিকেট কখনো ভুক্তভোগীর সাজে, কখনো সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে জনমত তৈরির চেষ্টা করে বিভ্রান্তি ছড়ায়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও অপপ্রচার চালানো এই চক্রের পরিচিত কৌশল।
উল্লেখযোগ্য হলো, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সুজনের কাজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মীর হাসমত আলী, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং সাবেক তথ্যসচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদের প্রশংসা পেয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ যৌথ বিবৃতি দিয়ে ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, মামলার নিরপেক্ষ বিচার এবং চক্রের হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সত্য প্রকাশের দায়ে সাংবাদিকরা যদি এমন হয়রানির শিকার হন, তবে স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, থাই ভিসা ও অবৈধ সিম চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও সাংবাদিক নির্যাতন আরও বাড়বে।




















