সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার
- আপডেট সময় : ১১:২২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
দেশে চলমান সিসা দূষণের নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত মাল্টিসেক্টরাল স্টিয়ারিং কমিটির সভায় খসড়া কৌশলপত্রের প্রাথমিক পর্যালোচনা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা কৌশলপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
কৌশলপত্রটিকে দেশের শিশু, শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সিসার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতের একটি জরুরি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত কৌশলপত্রের মাধ্যমে সারা দেশে সিসার সংস্পর্শ কমানো, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা জোরদারে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
কৌশলপত্রে পরিবেশে সিসার বিভিন্ন উৎস সিসাযুক্ত রঙ, অনুমোদনহীন ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি (ULAB) পুনর্ব্যবহার, সিসাযুক্ত রান্নার সরঞ্জাম, খেলনা ও শিল্পজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-রিকশাসহ ব্যাটারি-চালিত যানবাহনের দ্রুত বিস্তারের ফলে তৈরি হওয়া ই-বর্জ্যকে একটি গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে এর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার নির্দেশনাও কৌশলপত্রে যুক্ত করা হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাক্রম সংশোধন, শ্রম নিরাপত্তা, পরিবেশগত মনিটরিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার চলমান উদ্যোগগুলোকে একীভূত করাই কৌশলপত্রের প্রধান লক্ষ্য বলে সভায় জানানো হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান, উপসচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু, মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা সাবরিনা রহমানসহ স্বাস্থ্য, শ্রম, কৃষি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।
ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও পিওর আর্থসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, জাতীয় কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত হলে দেশের শিশু ও শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সিসার ক্ষতিকর সংস্পর্শ থেকে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এটি একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।


























