আমতলীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা, চতুর্থ দিনের মতো পরীক্ষা বন্ধ
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১২২ বার পড়া হয়েছে
বরগুনার আমতলী উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করায় চতুর্থ দিনের মতো বুধবারও বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পরীক্ষা বর্জন করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিউল আলম বলেন, “বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।” তবে মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিদ্যালয়েই তালা ঝুলছে, পরীক্ষা হচ্ছে না।
জানা গেছে, দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে গত ৮ নভেম্বর থেকে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তারা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করলেও, ১৭ দিনেও দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকরা গত বৃহস্পতিবার থেকে ফের শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।
সোমবার থেকে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও, বুধবার পর্যন্ত তা বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ২৪ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বুধবার সকালে আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে, পরীক্ষার্থীরা বাইরে ছুটোছুটি করছে। গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কেউ পরীক্ষা নেয়নি। অভিভাবকদের ক্ষোভে কেউ কেউ তালা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন বলেও জানা গেছে।
আঙ্গুলকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এনামুল, চাঁদনী ও শাহারা জানায়, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে তালা দিয়েছেন, তাই আমরা পরীক্ষা দিতে পারিনি।
অভিভাবক রিপন মুনসি বলেন, শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আমার মেয়ে পরীক্ষা দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে এসেছে।
উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, সহকারী শিক্ষকরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বিদ্যালয়ে তালা দেওয়ায় পরীক্ষা নিতে পারছি না।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চাওড়া পাতাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ১০ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। তারা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন, আমি নিরুপায় হয়ে বাইরে বসে আছি।
বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও একে হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিল্লুর রহমান বলেন, সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখি নতুন তালা দেওয়া। পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা তালা ভেঙেছেন। তবে সহকারী শিক্ষকরা কেউ বিদ্যালয়ে আসেননি।




















