বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
মুক্তাগাছা প্রতিনিধি
আজ ১০ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে মুক্তাগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় এই উপজেলা। দিনটি এলাকাবাসীর কাছে একাধারে আনন্দ ও বেদনার। মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তি সেনাদের তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলনে দখলদার পাক-হানাদার বাহিনী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
যুদ্ধকালীন সময়ে বর্বর পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যায় ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে বিপর্যস্ত হয় মুক্তাগাছার জনপদ। মুক্তিকামী জনতার সকল বাধা অতিক্রম করে পাকবাহিনী ৭১ সালের ২৩ এপিল শুক্রবার ১২টার দিকে জিপ ও ট্রাকের এক বিশাল বহর নিয়ে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে দখল করে নেয় মুক্তাগাছা। পাক বাহিনীর লুটতরাজ ও অগ্নি সংযোগের ফলে মুক্তাগাছা পরিণত হয় এক ধ্বংসযজ্ঞে। সে সময় পাকসেনাদের গুলিতে শহীদ হন অনেকেই।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর ‘২৪) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিনের অন্যান্য কার্যসূচিতে, সকাল ৯টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় সংগীত, পতাকা উত্তোলন, বিজয় র্যালী শেষে আলোচনা সভাসহ বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মসজিদ-মন্দিরে দোয়াসহ নানা কর্মসূচি গ্রহন করেছে উপজেলা প্রশাসন। দিনের প্রারম্ভে র্যালী শেষে উপজেলায় পরিষদ হল রুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলার সমবায় হিসাবরক্ষক জুবায়ের আহমেদ গালিব এর সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম।
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা পারভীন, সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য) নায়েব আলী খান, সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা রাজিয়া ফেরদৌস, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কাশেম, শফিকুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধা, সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আরো পড়ুন-